Posts

এ যে আত্মদগ্ধ সমাচার—

  এ যে আত্মদগ্ধ সমাচার— আর কত করিবে বধিরতার লালন? আমি আজ ক্লান্ত নই, শুধু একটু সময় প্রয়োজন— আমিত্বটাকে খুঁজে পাওয়ার গোপন প্রয়াসে। যেন ব্যথিত বেদনা প্রকাশ করিতেছে এক সত্য মর্মকথা। এ তো কেবলই কাদা-মাটির এক পাতলা প্রলেপ; তবে এর নিচে লুকায়িত আছে ঘোর-অঘোর শত পুতিবেদ। অন্তঃস্থ মানুষের নিরন্তর বশ্যতায় নেত্রে জাগায় শিষ্টতার বেগ। তুমি বা কবে এত ধৈর্যশীল হলে? অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভোগ-বিলাসের ভার বহন করিলে; তবু নীরবতার আবরণে লুকায়ে রাখিলে তোমার আমূল সমাচার। ইহা জানিও— এ কেবল আমার নয়, অপরিমেয়েরও অন্তর্লিখিত ইতিহাস। ✒️Thomas T.G.

মা-

মা-  মা,  মুখ ফুটে কখনো বলিনি তোমায় কতটা ভালোবাসি। আমি না বললেও তুমি কখনো তার কমতি রাখোনি। মাতৃত্বের মাহাত্ম্য কত গভীর—তা বুঝতেই যেন এ অবধী। আমার ভয়, আমার জয়, আমার ছোট্ট প্রতিটি থরথর মুহূর্তে— তোমার শাড়ির মৃদু গন্ধই ছিল আমার  নীরব সঙ্গী।  নাড়ির টান যে এত গভীর, এত অলৌকিক— তা কখনো কল্পনাও করিনি। সন্তানের শিরা-উপশিরায় তুমি যেন সকল শক্তি,  সকল অপরিহার্য যোগানের এক দীপ্তি । তোমার আলিঙ্গনে প্রান্ত-সীমাও নতশীর, তোমার চুম্বন যেন স্বর্গীয় সুধা-ধারার বৃষ্টি।  তুমি তো আমার জনন— ✒️Thomas T.G.

ভাবনাচ্ছটা:ঘরের কোণে বসে.....

  ভাবনাচ্ছটা:ঘরের কোণে বসে..... বৃষ্টির দিন। তুষার কণার মতো হালকা, কোমল ধারায় বৃষ্টি ঝরছে — যেন প্রকৃতি আজ কবিতার ছন্দে কথা বলছে। অথচ এই নরম আবহে মানুষের ভেতর একটা অদৃশ্য তাড়া, তাড়াহুড়া। যার যার দরকারে, স্বার্থে, গন্তব্যে ছুটছে সবাই। আর আমি? আমি একা, ঘরের কোণে বসে আছি। কোনো কাজ নেই — অথচ মনের ভেতর কত কাজ। ভাবছি। আবার, কেবল ভাবছিও না — শুনছি। শুনছি জানালার ফাঁক গলে আসা গান, জনমনের উত্তাপের গজগজ এবং পানি এক পাতা থেকে অন্য পাতায় পড়ার টুপটাপ শব্দ। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখি — একঝাঁক পাখি কদম গাছের ডালে বসে আছে। তাদের ডানা ভেজা, কিন্তু চোখে ক্লান্তি নেই। ওরা ব্যস্ত, কারণ ওদেরও তো ঘর বানাতে হয়। কদমের ডাল আর ঘাসের টুকরো দিয়ে ওরা জোগাড় করছে নতুন এক বাসার স্বপ্ন। কেউ একা নয়। একটা গাছের চারপাশে চারটা বাসা, সঙ্গে একটা ছোট্ট চলমান বাসা — কপোত-কপোতির উড়ে চলা সংসার। কী আশ্চর্য! ওরাও তো আমাদের মতো, এমনকি অনেক বেশি গোছানো, যত্নবান। আমার মনে হলো, আমি কি তবে অপকর্মী পাখি? পাখিরাও যখন দায়িত্ব বোঝে, তখন আমি কেন কেবল নিজের সুখেই আটকে থাকি? জীবন তো সবার। শুধু নিজের আনন্দে বাঁচলে কি জীবন হয়? হঠাৎ পাখির চো...

অর্ধনগ্ন চৈতন্য—

  অর্ধনগ্ন চৈতন্য— এক তটাক্ষীক নদীর ওপারে,  ভাসবো তুমি আমি দুজনে—  নীরব জলের বুকে ভেসে,  হাসবো, খেলবো, মাতবো মধু-মিলনে। শুধু তুমি আমি দুজনে,  এক বন্ধুবনে, তরিত মনে—  প্রকৃতির ছায়ায় ঘুরবো নীরবে,  ভুলে যাবো সকল জনারণ্যের ক্লেশ।  অর্ধ নগ্নতা লুকাতে তুমি  খুঁজবে তৃণ মেঘ, সবুজের আড়াল মেদ,  লাজে মিশে যাবে শরীর তোমার  মাটির সাথে, বনভূমির জলে। আমার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে  এক দৈত্য আখড়ার জাগরণ—  বন্য তৃষ্ণা, গভীর টান,  অশান্ত প্রাণ দহনে। তবু শেষে সেই উন্মাদনা  মিশে যাবে সাধুকী বনে—  নিঃশব্দ শান্তির গভীর ছোঁয়ায়,  হারাবো তুমি আমি দুজনে। আর তখন—  ভাসবো না শুধু, থাকবো থেমে,  সময়ের স্রোত ভুলে গিয়ে,  দুজনেরই এক অনন্তে। ✒️Thomas T.G.

লালসার নরক: মানবতার পতন—

  লালসার নরক: মানবতার পতন— আজ আমার আপনার পরিধি কতটুকু— কোন পর্যায়ে স্থান নিয়েছে আজকের মানব সমাজ? এতো কেবলই এক সমাচার, হয়তো সূচনা লগ্ন, তবু যেতে হবে বহুদূর—বহুদূর, হয়তো গগন পার; তখন করিবে শুধুই হায় হায়, কিংবা হাহাকার। রাস-উল্লাসে জীবন কাটাই, দেহের ক্ষুধায় শান্তি চাই; বিবেক আমার ভাঙ্গা যে আজ— মানুষরূপী পিশাচ সাজাই। এতো কামনা, এত লালসা পুষছি যে আমি আজ— এ যেন বাস্তবিকই এক নরক-দারের চতুষ্টয়। ✒️Thomas T.G.

পুতুলের হাসি

  পুতুলের হাসি — শোনো, একটা গল্প বলি– একবার একটি পুতুলের হাসিতে যেইনা মেতেছি,  অমনি যেন মন করে হুড়াহুড়ি।  যদিও বলছি পুতুল সে মণি,  তবুও তার হাসি কিন্তু নকল না,  বরং খনি; ছিল বাস্তবিক। তবে পুতুল নাচেরে এ মঞ্চে  তা অনেক সময় হয় মলিন!  তখন সে একা বসে,  কি যেন মনে ভাবে,  নিজেকে প্রশ্ন করে?  অতলের জল যেন উপচে পড়ে! নিজকে কাব্যিক ভেবে কিছুটা গল্প লেখে,  টান সটান আছার মারে।  নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে?  পুরনো দিনের স্মৃতি খুঁজে— সবকিছুই যে কাঠ পুতুলের গল্পে মিশে। বাতাস তখন জায়গায় এসে।  বলে, “চলো আবার হেসে,  বইবো নতুন প্রাণ নিয়ে।” মেঘ তখন সরে গিয়ে নিভু প্রদীপের আলো ধরে।  বলে, “চলো এবার নতুন মনে,  সাজবে এবার বধু বেশে।” হাস এবার প্রাণ খুলে,  আগে যেমন পুতুল ছিলে! ✒️Thomas T.G.

রুদ্ধ সমাজ—

  রুদ্ধ সমাজ— অন্ধকার ঘরে আমি এক পন্থিক, দরজার ওপারে তুমি মসৃণ সু-নীড়। ভাবের ঘোরে ভাসা কোনো ভদ্র সালিন নই আমি! ভাবনাচ্ছটার মুখে,  আমি দমড়ানো মুচড়ানো এক সুধীর। পঙ্কিলতার চিহ্ন তুমি কি চিনো?  তুমি কি জানো?  এ শুধু এক পদাক্ষিক  যাত্রা নয়,  এ হচ্ছে একরাশ জীবনের গল্প  যেখানে মিশে আছে হাজারো নগ্নতার প্রতিচ্ছবি।  এ যুগে এসেও  যদি আমি দিন কাটাই অলিক, তবে ধীক আমায় আমি যে কুম্ভধীর! ✒️Thomas T.G.

স্বদেশকাঙাল

  স্বদেশকাঙাল — সুপ্রভাত হে চির গগন,  নবীকৃত কর মোদের শত প্লাবন! একুশের এ যে গান— রব তুলেছে রক্তরাঙা কাল। ভালোবাসি, ভালোবাসি,  আমি যে স্বদেশকাঙাল। এ এক অগ্নীযাত্রা,  নগ্ন পায়ে সরু এ রাস্তা, হেঁটেছি বহু ক্রোশ, হইনি লক্ষ্য ছাড়া। ভালোবাসি, ভালোবাসি,  আমি যে স্বদেশ-মাটিতে গড়া। হারিকেনের নিভু আলো পাড়ি দিয়েছে বহু শহর, শত মায়ের অশ্রু দিয়ে গড়েছি এক নতুন জনম। কচুরিপানার নোংরা সে যে স্তুপ, খড়গাদার ঢিপি— আজ কল্পনায় জাগায় প্রাণউত্থান হাজারো গীতি। তবে এখনো ভুলিতে পারিনে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙাল  একুশে ফেব্রুয়ারি! ✒️Thomas T.G.

কি লাভ?

  কি লাভ?  কি লাভ বল এত কিছু গুছিয়ে?  শেষে সবই মেঘের মতো উড়ে যাবে,  হাতের রেখায় লেখা গল্প, সময়ের ঢেউয়ে ধুয়ে যাবে।  কি লাভ বল এত হিসেব মিলিয়ে? জীবন তো হিসেবে খাতা নহে,  একটু ভুল একটু শুদ্ধ  সব মিলিয়েই তার রঙ অনন্য।  কি লাভ বল, এত কথা বলাতে - যখন নীরবতায় সব বোঝে!  শব্দেরা ক্লান্ত পথে হারায়,  শুধু চোখের ভাষায় রয়ে যায়।  কি লাভ বল ভয় পেয়ে,  জীবনের এই রঙ্গমঞ্চে !  ডুবে গেলে আবার উঠব স্রোতে  তুমি হবে তার আলো,  আমি তার অঙ্গ বিশেষ।  কি লাভ এত স্বপ্ন বুনে,  যদি জাল বুনে বন্দিই হলে। স্বপ্ন তো নিছক মিছে,  যত ছাড়ো তত সে উড়ে। কি লাভ এত ঘৃণার আশে, ভালোবাসা কি কখনো মাপে চলে?  তা হয়তো বৃষ্টির মত,  যেখানে যায় সেখানেই ঝরে।  কি লাভ বন্ধুত্বে,  যদি ঘুম ভাঙ্গলেই সব মুছে নিলে। আলো অন্ধকারের গোলমালে,  জীবন শুধু শান্তি খোঁজে।  কি লাভ চোখে পানি রেখে,  তাতে শুধু কষ্ট বাড়ে - দুঃখের নদীর ওপারেতে  নতুন ভোর আলোর সাজে।  কি লাভ অভিমানে,  যদি সময় চুরি করে নেয় সেই ...

আধো পথিক-

  আধো পথিক- আমি কে? এ-ই বিষণ্নতা, অনেকটা মায়া— একটু ভালো লাগার পিছনে লুকায়িত আমার সত্ত্বাই হয়তো আমি! আধো অন্ধকার ভেদ করে আমার এই যাত্রা হয়তো উচ্চাকাঙ্ক্ষার, তবু পুরনো স্মৃতির পাতা মুচরে ফেলা কিছুটা হলেও বেদনার। আজ ভাবতে অবাক লাগে— যে চিরচরিত অট্টালিকা  আমার স্মৃতির ভেতর স্থির, সেটাই হবে আমার অতিথিশাল,  কিংবা ক্লান্ত আত্মার একমাত্র নীড়। আজ আমার অশ্রুসিক্ত চাহনি  আমার ভাবাবেগ গতি, কাউকে বোঝাতে পারিনি— এ শুধুই আমি! নতুনত্বের সন্ধানে আমি এক আধো পথিক। ✒️Thomas T.G

শূন্যতার প্রতিধ্বনি

  শূন্যতার প্রতিধ্বনি - মোমের ধাচ গলে যাবে, ফুলের সৌরভ বীলিন হবে, আলোকসজ্জার এ আভাও অন্ধকারে মলিন হবে তবে কি লাভ! এত ভাব ভূষনে, কি লাভ এত আড়ম্বরতার; যদি তুমি বিবেকের দংশনই না শুনতে পাও? এ বিশালতা,  ভেসে আসা কচুরিপানা,  নোঙর তোলা পাল সবি হবে খান খান। অহংকারে তোমার দোদুল্যমান পতন ভার,  সারা–পড়ল মায়ার সাজে রঙিন মঞ্চটার। শুধু টিকে থাকলো কি না ক্ষীণ সত্যের কড়িকাঠ_ 'নিজেকে না জাগালে, কিছুকে জাগানো যায় না ' ✒️Thomas T.G.

মুখোশধারী

  মুখোশধারী- মুখোশধারী— কিছু সময়ের ব্যবধানেই আমি হয়ে উঠেছি অজানা এক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। চাঞ্চল্যপ্রিয় এ জনপদ আমায় করেছে বহুরূপী— উপরমহলের তাড়ায় রওনা হয়েছি, থামিনি, দাঁড়াইনি, বরং হয়েছি নতুন এক মুখোশধারী। ভেবেছিলাম— আমি ভিন্ন, আমি হয়তো ব্যতিক্রম, কিন্তু আমার যুক্তিহীন ভাবনার কণ্ঠরোধ করে জনপদ ঘোষণা দেয়— “আমরাই সকাল, আমরাই অনন্য।” আমি ভেবেছিলাম, আমি বুঝি! শান্তিপ্রয়াসী মানুষের অন্তর্নিহিত কষ্ট, কিন্তু, আমিও তো হয়ে উঠেছি আরামপ্রিয় জীবনের বোঝা বয়ে বেড়ানো এক যাত্রী— কারণ আমিও মুখোশধারী। টিমটিমে কিছু আলো, দূরন্ত গতিতে সে কালো — আমিও তারই মত সঙ্গী করেছি নতুনত্বের মোহ। আমি শুনি সেই ভূমি-গ্রাসী মানুষের আর্তনাদ, কিন্তু দেখেও দেখি না— শুধু শুনেই পার। আমি শুনি কোলাহলপূর্ণ জনপদের রঙিন মোড়কে মোড়ানো দামী প্রবচনের ঝলকানি। এখন শত তারকার মধ্যেও খুঁজে পাই না "আমরা"–র সত্যিকারের অস্থি। আমি হারিয়ে ফেলেছি অধিকার— সেই দহনমুক্ত, কুঞ্চিত-দাগহীন ব্যক্তিত্ব খনির এখন আমি কাঁদি—নতুনের আড়ালেই, চিৎকার করে বলি: “এই আমি! এই আমি !” তবু সবার উত্তর এক হয়ে বলে_ “তুমি? তুমি তো মুখোশধারী।” হ্যাঁ, আমি— মুখোশধারী।  ...

বন্ধুত্বে নিঃশেষ—

  বন্ধুত্বে নিঃশেষ—    আমি কথা বলিনি, শুধু অনুভব করেছি - বন্ধুর মুখের চাঁদমাখা হাসি!  চুপচাপ সন্ধ্যার মত তার পাশে বসি,  আমার স্পন্দন ছিল নীরবতার  যুগল রাশি ; যেখানে শব্দেরা হেরে যায় চোখের ভাষায়,  নীরবতা'ও যেন গল্প বলে যায় আন্মনায়।  দিলাম যা কিছু_ আস্থা,  সময়, বিশ্বাস ও কাঁধ ; তবুও কেমন শূন্য লাগে বক্ষধারার এ শ্রীঘরা। বন্ধুত্ব কি তবে নিঃশেষ হবারই এক রঙ্গ খেলা?  নাকি এ একপ্রকার জনমের সন্ধি মেলা?  কিছু সম্পর্ক আঁকা হয়  জল রঙে; জলে মিশে যায়,  কিন্তু ছাপ রেখে যায়।  তুই নেই পাশে তবু আছি তোরই ছায়ায়_ বন্ধু!নিঃশেষ'ও থাকবো আমি তোর ভালোবাসায়।   এখন এ বাটে বন্ধুর আনাগোনা যদিও ভাবনাদেশ,  তবুও তো আমি  আমার মাঝে হয়েও,তারই জন্য নির্ভীক পথহারা অনিমেষ ; আমি এখন অনেকটা দূরে,  তবুও সে আমার হৃদয় গহীনে আছে মুখ লুকায়ে  আমি ভাবি, আমি খুঁজি.... তবে সবশেষে তো,  আমি নিঃসঙ্গতারই অন্য ক্লেশ!  এ নিঃসঙ্গতা, এ  স্তব্ধতা, এই হাসফাঁস করা আত্মা তো,  বন্ধুত্বের নিঃশেষের চিহ্ন নয়  এ দূরত্ব,...

ভালোবাসার অপব্যয় —

  ভালোবাসার অপব্যয় — সত্যি বলতে কি,  আমি আসলেই ভালোবাসা বুঝি না শুধুই ভালবাসার অভিনয় করি। তবে এটা বাস্তব যে  আমি তোমায়,কেবলই তোমায়,  ভালবাসি আপন মনে! সত্যি সত্যিই বলতেই,  আমি কখনো প্রেমে পড়িনি তাই কোন খরচাপাতির কোন প্রশ্ন ওঠেনি কিন্তু তাই যেন আজ হাক তোলে মুদিখানার কাচা টাকার ঐ ঝনঝনানি। ✒️Thomas T.G.

মন ফাটলের গড়ন

  মন ফাটলের গড়ন — দেবযানী, অপরিমেয় আজ যুদ্ধ করছে এক প্রলয়কারী ঝড়ের সঙ্গে। আজ একে একে গুনছে তারা— যা হয়তো হতে পারত তোমার-আমার সীমানা। কিছু না, আজ সে এটাও বুঝেছে— এ কিন্তু হবার নয়, কোনো কালেই নয়। কারণ এ নরম মন উষ্ণ পাতে হয়নি দহন, রক্তচক্ষু ষাঁড়ের পাছে বাঁধেনি লাল সুতো। তবে কী করে? বল, তবে কী করেই বা হবে এ মিলন? তুমি বরাবরই ছিলে তৎপর, আমি কেবলই তার সহায় রব। কুলুষিত এ প্রাণে আমার তুমি এক স্মরী। তারও চেয়ে দীপ্তমান কোন এক মুণী। ধিক্ ধিক্ আমায়, ওগো প্রিয়েষু, যদি না যুদ্ধে আমি জিতি। আমি ভৈরবী, চণ্ডাল-পিশাচের হাতে এক তন্ত্রী; গড়নেও যার কষ্ট অসীম— আমি... আমি... ✒️Thomas T.G.

টানাপোড়া

  টানাপোড়া — দেবযানী একবার চেয়ে দেখো— আজ আমি অতি ভাবুক হয়ে উঠেছি; আমি শুধুই তোমাকে নিয়ে ভাবছি। দেখো, আজ আমি তোমার জন্য রাত জাগছি। আমার অশ্রুভেজা চোখ আজ যেন গয়ংগচ্ছ। বড়ই মন চায় বলতে— আমি তোমায় ভালোবাসি। কিন্তু হায়! অন্য এক ডাকে সাড়া দিয়েছি আমি; আমি যে সন্ন্যাসী। ✒️Thomas T.G.

বিশ্বাস কর, আমি ছিলাম তোমার পাশে

বিশ্বাস কর, আমি ছিলাম তোমার পাশে ঐদিন, যখন তুমি বেরিয়ে এলে সেই বিশাল ভবন থেকে, রিকশাওয়ালার সঙ্গে দরদাম করছিলে, বলছিলে তোমার গন্তব্যের ঠিকানা— আমি তখনও ছিলাম তোমার পাশে, নিঃশব্দ, নির্বিকার। তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাস আমি গুনেছিলাম, প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে নিঃশব্দে হেঁটেছিলাম আমিও। তুমি তো জানো, মিষ্টির প্রতি আমার দুর্বলতা চিরকালের। একবার ভেবেছিলাম, গরম লুচির সঙ্গে একটু মিষ্টিমুখ করে আসি— ক্ষণিকের জন্য সরে যাই তোমার পাশ থেকে। কিন্তু না, ওদিকে আমার চোখ যায়নি; যাইনি আমিও। তোমাকে একা রেখে সরে যাওয়ার সাহস হয়নি কোনোদিন। আজ সাদা এপ্রনের আড়ালে ফিকে হয়ে গেছে রঙিন পৃথিবীর সমস্ত সাজ। তবু তোমার হাতে গাজরার ফুলগুলো এখনো অদ্ভুত সুন্দর মানিয়ে আছে। চোখে জমেছে ভয়ের ছায়া, মুখে মৃত্যুর ক্লান্তি, অঙ্কুরিত আর্তনাদ, চারপাশে মাছির অবিরাম ভনভন— সময় যেন নিজেই এক নিঃশব্দ শোকগাথা। ধূপের গন্ধ আমাকে টেনে নিয়েছে অচেনা এক নিরুদ্দেশে; তবু বিশ্বাস কর— শেষ নিঃশ্বাসের আগ পর্যন্ত, আমি ছিলাম তোমার পাশে। ✒️Thomas T.G.

ন’র অর্ধে নারী—

  ন’র অর্ধে নারী— ন’রের অর্ধে নারী— আমি ভীরু, ধীর, এক জংলাসু প্রাণ, খুঁজেছি শুধু তোমারই পথ, টিমটিমে আলোয় গড়েছি আমার সামান্য সম্পদ। বেঁধেছিলাম গিট— যেন খুলে না যায় এই শিথিল নগরী, তবু তুমি মানলে না; বিলাপ আর রোদনে গড়লে নতুন ভিত। এ আমি—নর, সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালি ক্লান্ত হাতে; আর তুমি—নারী, চরকা ঘোরাও গণ্ডিচণ্ডি অবধি, অবিরাম শক্তিতে। আমি আজ পিশাচ— দিবারাত্র জ্বলি, নিজ অগ্নিতে দগ্ধ এক অভিশপ্ত প্রাণ, ঝমুক্তি নেই, রেহাই নেই, নেই কোনো পরিত্রাণ। আর তুমি—নারী, নন্দীকালী রূপে জেগে ওঠা প্রলয়ের আগুন, ভস্ম করো ভণ্ড সব নিয়ম, মিথ্যে সভ্যতার আইনকানুন। তুমি দাও জীবন, দাও আলো, ভেদাভেদ রাখো না কোনো ভাণ্ডারে; তবু কেন ঝরে শত শত পুতুলরূপী কন্যা-দেবী— এই সভ্যতার নামে দাঁড়ানো নিষ্ঠুর অন্ধকারে? বল, এ কেমন বিচার— যেখানে দেবীই হয় বলি, মানুষের ছদ্মবেশী পিশাচের দ্বারে! হায় হায়— আজ এ ঘনায়, মরিলেই যেন বাঁচি, মনে হয়; তিক্ত এ সমাজ যে সর্বনাশী। ✒️  Thomas T.G.

অঙ্কুরিত দম—

 'অঙ্কুরিত দম'— এ শুভময় হাসির পাদুকা,  ঘোর নিশির অনিশ্চয়তায় ভরা  আজব এক নিঃশ্বাস! রোপিত চারা গাছ অঙ্কুরিত হওয়ার আশায়,  প্রেম আগ্নির প্রতীক্ষায় । যবে রচিবে কূল, সবই হবে ভুল— ও যে তোমার মোহনায়। পদাকার, কদাকার কিংবা সদাকার—আমি নই ভ্রম, নই হটকারিতার কোনো রূপম। আমি কেবল গজে ওঠার ভরসায়, ছোট্ট এক দম। উঠবো যেদিন ফুলে-ফেঁপে, আটবে যেদিন কোমর বেঁধে, বুঝবে সেদিন—আমি কিসে অঙ্কুরোদগমের ভোর। তুমি-আমি গল্প লিখি, হচ্ছি আমি ছোট, বড়ো হওয়ার যাতায়াত, সবই যেন তুচ্ছ। এখন আমি দিনে দিনে  মাটির সঙ্গেই হচ্ছি নিঃস্ব। তুমি আমার প্রাণের আশা, তুমি যুগল রাশি,  অপরিমেয়র অগোচরে তুমি সন্ধ্যার হাসি। চেয়ে দেখো—প্রথম থেকে আবার শুরু করি, আমি তোমার কচি বালা, অঙ্কুরিত হইনি , যবে তুমি জল দিলে হব তৃপ্ত-প্রীতি। খোলস সেদিন যাবে খসে, শিকড় হবে স্থির, নীল দিগন্তে একদিন হবো ভবযাত্রার পথিক। আমি তোমার দিন-রজনী, তুমি আমার সখী, হাসি-কান্নায় ভেসে যাবে হব পাগলবেশী । অঙ্কুরোদগমের আশায় না হয় কাটুক জনম-ক্লেশ, তুমি আমার, আমি তোমার— এটাই -নিঃশেষ ভালোবাসার শেষ।  ✒️Thomas T.G.

পীড়াগ্রস্ত

পীড়াগ্রস্ত – দেখ আমি পীড়াগ্রস্ত আত্মা ওহে কাঙ্গাল কত লইবে ত্রাণ এবার না হয় থাম বাপু, নাহয় সবি যে হবে নিলাম। চাহিয়া দেখো তোমার ভ্রাতৃসনদ করিছে হাসফাস, পাছারিতে তারা হয়েছে আধোপ্রায়। তবে আমি কোন শব্দ নই, আমি এক নিঃশব্দের ভাঙ্গা আলো— যেখানে সন্ধ্যা শুধুই কালো, যেখানে রাতও হাঁটে ধীরে বহতা ছায়া টেনে টেনে। আজ গোধূলি লগ্নের পাখিরাও হারিয়েছে তাদের সাজ, অনুভূতিতে জাগায় কেবলই বিমনোদ্রেকের গান। কিন্তু দূরে কারও বাঁশির সুর হালকা করে ছুঁয়ে যায় মন, যেন ব্যথার ভেতরেও বেঁচে আছে কোনো স্মৃতি-উন্মাদনা। আজ আমি পীড়াগ্রস্ত, কোন আত্মায় লেখা, কোন মোনাজাতের পাঠ; যা কেবল বাতাসই বোঝে আর কাতরায়। আমি হারাই, আবার ফিরে আসি নিজের ভাঙ্গা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কান্না করি। হঠাৎ দেখি—দরজার পাশে সূর্যের ক্ষীণ স্পর্শ পড়ে আছে চুপিসারে, ডেকে যায় আমার হারানো সত্তাকে। আর বুঝি— আমি পীড়াগ্রস্ত, আর এ আমার মনন ব্যাথা! ✒️Thomas T.G.

মত্ত পাপী—

মত্ত পাপী— আস্বাদনের তোমায় চিনি না হয় আজি হবে দেরি; মননে গড়া এ শৈলগির, ভাঙিবে আজ নয়ন হেরি তুমি সুধা কর পান হবে না হয় সবই দান। আমি তোমার চক্ষু হেরি চরণ তোমার শত চুমি। তুমি যে দাও সুধা বাণী আমি তারই অনুগামী। তুমি আমার সাধন ভজন না হয় হলাম নগ্ন সাধক আমি যারে খুঁজে মরি সেই তুমি ডাক যানি। না শুনে আমি কেমনে থাকি? ভগ্ন আমি পাপেতে ডুবি তবু সব ত্যাগিতে রাজি, তোমার তরে সবই বাজি তুমি যদি হও মোর একান্ত পথস্বামী! পাঁজরবদ্ধ মৃত আমি তুমি শুধু আমার—একমাত্র তুমি, পথ দিশারী। তবু যে রয় কালি, আমি যে অন্ধ বেশি মত্ত পাপী!   ✒️Thomas T.G.

রিক্ত বেদনা —

  রিক্ত বেদনা — বেদনার প্রকাশ কি ঘটে শুধুই তোমার মোহে নাকি মোর এ শূন্য প্রাণে? আজ আমি তোমার সমিপে, উজাড় করে দিতে চাই মনের সব হিসেব। তবে একটা কথা আছে— কেউ মোরে রাখে না ধরে যদি না তুমি সাড়া দিলে। লুকিয়ে আছি আধোপথে; কেউ না আসে আলো হয়ে।  যখন খোঁজো কারণ শেষে ছায়া বলে করুন হেসে— আমি তোমারে সঙ্গ দিশে, হঠকারিতা যে শুধুই মিছে। এখানেও একটা কথা আছে, জগত আমায় ভালোবাসে, আমি যে আজ শত সাজে ধরেছি শত বেশ। তবে তিনি শুধুই খোঁজেন ভগ্ন, রিক্ত আমার অন্তরদেশ। জগৎ আমায় নতুন শেখায়, সোনালী রোদের ঢেউয়েও গলে যায় আমার স্থবির কাতরতা, রক্তের ক্লেদে। এই দুনিয়া মানায় কেবল ভাবনামগ্ন বেশে, এ দুনিয়া মানায় কেবল পূর্ণিমার চাঁদেও লুকানো নষ্ট ক্ষেতে। জীবন-জোয়াল বড় ভারী, মৃত গল্পের ভেতর যেন এক অদ্ভুত অমৃতের রঙ্গরাশ। শুভ্র পোশাক পরিহিত ক্লান্ত প্রাসাদসিন্ধু, অমেয় পথের যাত্রায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছি— আমি রিক্ত বন্ধু।

জীবনটা—একটি অনন্ত প্রশ্নের গল্প

 ' জীবনটা—একটি অনন্ত প্রশ্নের গল্প'- আচ্ছা, জীবনটা আসলে কী? এই প্রশ্নটা যত সহজ শোনায়, ততটাই গভীর। আমরা প্রতিদিন বাঁচি, চলি, কথা বলি—তবুও হঠাৎ একদিন মনে হয়, “আমি আসলে কীসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি?” তখনই এই প্রশ্নটা আমাদের ভেতরে জেগে ওঠে। জীবনটা কি তালপাতার চড়কি—যে মৃদু হাওয়ায় আমি নেচে উঠি, আর দমকা হাওয়ায় দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়ি? মাঝে মাঝে সত্যিই তো এমন লাগে। একটু ভালো কথা, একটু প্রশংসা—আমরা খুশিতে ভেসে যাই। আবার সামান্য কষ্ট, সামান্য অপমান—আমরা ভেঙে যাই। যদি জীবনটা শুধু চড়কির মতো হতো, তাহলে আমাদের কোনো ভিত থাকত না, কোনো স্থিরতা থাকত না। আমরা শুধু পরিস্থিতির খেলনা হয়ে থাকতাম। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমরা জানি—জীবন এতটা দুর্বল নয়। তাহলে কি জীবনটা সাইকেলের চাকায় হাওয়া ভরার মতো? যতই হাওয়া ভরি, একসময় থামতে হয়। কারণ অতিরিক্ত চাপ আর নেওয়া যায় না। একটা সীমা আছে—প্রসারের, শক্তির, সহ্য করার। এটাও সত্যি। আমরা যতই দৌড়াই, যতই অর্জন করি—একটা জায়গায় এসে থামতেই হয়। শরীর বলে “আর পারছি না”, মন বলে “একটু বিশ্রাম চাই।” জীবন যেন আমাদের শেখায়—সবকিছুই সীমার মধ্যে সুন্দর। কিন্তু জীবন শুধু থেমে যাওয়ার গল্প না। জী...

আমি কে? —

  আমি কে?  একটু থেমে নিজেকে নিয়ে নিজের ভেতর একা হয়ে নিজেকেই খুঁজি নীরব সুরে— কে আমি, এই প্রশ্ন ঘুরে ঘুরে। কখনো খুঁজে মেলে আনন্দের আলো, কখনো আবার ব্যথার কালো। অতীত এসে ভাসায় চোখের জলে, তিক্ত স্মৃতি নীরব হয়ে বলে। ভবিষ্যতের দূর অজানা পথে ভাবনা জাগে হৃদয়ের সাথে। ভালো-মন্দের ভার নিজের কাঁধে, চলতে হয় জীবনের সেই সাঁকে। শোনা যায় কথা—ভাবিয়া করিও কাজ, করে ভাবি, তবু হারায় মাঝে মাঝে সাজ। কতবার আর কষ্টে নিজেকে ভাঙা, নিজেরই কাছে নিজের হওয়া ম্লান রাঙা। তবু জানি এক সত্য চিরন্তন, সদাপ্রভু জানেন আমার মন-মনন। তিনি দেখেন শিরা-উপশিরার গান, আমার নীরব ব্যথার অজানা প্রাণ। আমরা তবু মানুষ, সীমিত জ্ঞানী, বোঝার মাঝে রয়ে যায় অজানা বাণী। দুই দিনের এই ক্ষণিক জীবনখানি, আনন্দে ভরে রাখাই তারই মানি। হাসির মাঝে কাটুক দিনের পথ, দুশ্চিন্তা কেন করবে এত যত? কোলাহল হোক, তবু হোক সুবিবেচনা, জীবন মানেই অনুভবের বর্ণনা। শেষে যদি আসে ভারী কোনো ক্লান্তি, চোখের জলে হোক হৃদয়ের শান্তি। কান্নায় ধুয়ে যাক মনের সব বোঝা, নতুন করে বাঁচার থাকুকই ভরসা।    ✒️Thomas.T.G.

অন্তঃস্বর—

অন্তঃস্বর অপরিমেয় কেন করো ক্রন্দন? অবচেতন মন, কেন হও এত মত্ত? কেন এত প্রশ্ন, এত অগণিত সংশয়? এ যেন কাদা-মাটির মণ্ড— ছুঁলেই ভেঙে হবে খণ্ড খণ্ড। এ যেন এক নিরাকার দণ্ড, যার আকৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি,  যে সত্তা এখনো অজ্ঞাত, অদৃশ্য। শোনো, কান পেতে শোনো তার কর্কশ শব্দ— এ তো নয় বাসের ঘর্ষণ, বাজের গর্জন, কিংবা বৃষ্টির স্পর্শে মাটির সুগন্ধে মুখর কোনো লগ্ন। এ ঘোলাটে নয়— এ কেবল স্বচ্ছ জলে নিজেরই প্রতিফলন। আঁকাবুকি কিংবা ডাকাডাকি— সবই নিছক, শুধুই ক্ষণিকের কোলাহল। দোয়াত-কালির কলম লিখছে আজ চিরন্তন সত্য। নিজেকে খুঁজে পাওয়ার সময় যে বড় স্বল্প! ✒️Thomas.T.G